Contact us for any information: 01781112484

Scholarship Details

Study in Portugal for Bangladeshi Students

কোন এজেন্টের মাধ্যমে নয় নিজে নিজেই পর্তুগালে উচ্চশিক্ষার যাবতীয় ব্যবস্থা করুন।

যারা উচ্চশিক্ষার জন্য পর্তুগালকে বেছে নিয়েছেন কিন্তু বুঝতে পারছেন না কিভাবে এগিয়ে যাবেন, তাদের জন্যই মূলতঃ আজকের আর্টিকেল। আমাদের দেশের বেশিরভাগ ছাত্র ছাত্রীরাই পর্তুগালে উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন এজেন্টদের মাধ্যমে এপ্লাই করেন। এতে যেমন অতিরিক্ত অর্থ খরচ হয় আবার অনেক সময় শিকার হতে হয় বিভিন্ন দুর্ঘটনার। কিন্তু আজ এই ব্লগে পর্তুগালে উচ্চ শিক্ষায় যেতে হলে যা যা করনীয় তা বিস্তারিত ভাবে দেয়া হয়েছে। পর্তুগালে ভর্তির আবেদনের যোগ্যতা,টিউশন ফি, স্কলারশিপ,ভিসার জন্য আবেদন,পার্ট টাইম জবের তথ্য থেকে শুরু করে পর্তুগালে পি.আর সংক্রান্ত সকল তথ্য বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে।


সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পর্তুগাল দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। এটি আইবেরীয় উপদ্বীপের পশ্চিম অংশে, স্পেনের দক্ষিণে ও পশ্চিমে অবস্থিত। পর্তুগালের রাজধানী লিসবন এবং এটি পর্তুগালের সবচেয়ে বড় শহর। এ দেশের প্রধান ভাষা পর্তুগিজ। ১৬শ শতকের শেষ নাগাদ পর্তুগালের শক্তি ও সম্পদ নিঃশেষ হয়ে যায়। পর্তুগাল ইউরোপের সবচেয়ে অনুন্নত দেশগুলির একটি। দেশটির আয়তন ৯২,২১২ বর্গ কিঃমিঃ এবং জনসংখ্যা ১০,৩৪১,৩৩০ । ২৫ শে জুন ১৯৯১সালে পর্তুগাল সেনজেন এরিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়।

পর্তুগালের পড়াশোনার মান ও গ্রহণযোগ্যতা ঃ

পর্তুগালের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পড়াশোনার মান বেশ ভাল এবং এদের ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বজুড়ে। এখানে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্যাচেলর, মাস্টার এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে পর্তুগীজ ভাষায় পড়ানো হয়। তবে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমে ব্যাচেলর, মাস্টার এবং ডক্টরাল প্রোগ্রামে পড়াশুনার সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তির সুযোগ রয়েছে, যেমনঃ প্রকৌশল, স্বাস্থ্য, আইন, ব্যবসায় শিক্ষা, সমাজ বিজ্ঞান ইত্যাদি। পর্তুগালে অনেক পুরাতন ও ভাল মানের ইউনিভার্সিটি রয়েছে।

পর্তুগীজ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাঃ

http://www.4icu.org/pt/  অথবা

https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_universities_and_colleges_in_Portugal

কিছু বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি হচ্ছেঃ

University of Porto

University of Lisbon

Nova University of Lisbon

University of Coimbra

University of Aveiro

পর্তুগালে আবেদন করার পূর্বে আপনাকে কিছু বিবেচ্য বিষয়

ইতিমধ্যেই আপনারা অবগত হয়েছেন যে, পর্তুগাল ইউরোপের সবচেয়ে অনুন্নত দেশগুলির একটি। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এখানে কাজ পাবার সম্ভাবনা খুবই কম। ভাগ্যক্রমে যদি পেয়েও যান, বেতন এর পরিমাণ খুবই কম হবে। যা দিয়ে থাকা খাওয়ার খরচ হয়তো হয়ে যাবে। কিন্তু টিউশন ফি হবে না, টিউশন ফি’র পুরোটাই আপনাকে দেশ থেকেই নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময় ও প্রক্রিয়া

আবেদনের সময়কালঃ পর্তুগীজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর, মাস্টার , পিইচডি প্রোগ্রামে সাধারণত বছরে ০২ টি সেশনে আবেদনের সুযোগ আছে। আবেদনের সমকাল নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এবং এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত। পর্তুগালে আবেদনের জন্য আইইএলটিএস (IELTS) বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু ইংরেজিতে কথা বলার মত ভাল দক্ষতা থাকা ভাল। আইইএলটিএস (IELTS) থাকলে ভিসা পেতে সহজ হয়।

টিউসান ফীঃ প্রতি বছরে ৯০০ থেকে ৬০০০ ইউরো পর্যন্ত।

ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র- ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন পোর্টালে অ্যাপ্লিকেশান

  • অ্যাপ্লিকেশান ফী (৫০-৬০ ইউরো) প্রদানের রশিদ।

  • সর্বশেষ একাডেমিক সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপি।

  • ইউরোপাস সিভি।

  • পাসপোর্টের স্ক্যান কপি।

  • ছবি।

  • রিকোমেনডেসান লেটার (অপশনাল)।

  • মটিভেসান লেটার।

নোটঃ উপরোক্ত ডকুমেন্ট গুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন পোর্টালে বা ই-মেইলে পাঠাতে হবে। যদি আপনি সিলেক্টেড হন তাহলে আপনাকে টোটাল টিউসান ফীর নির্দিষ্ট অংশ অগ্রিম পে করতে হবে। পর্তুগীজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে কোনরূপ ইংলিশ প্রফিসিয়ান্সি বা আইইএলটিএস লাগেনা। তবে ইংরেজিতে কথা বলার মত দক্ষতা থাকতে হবে।

পর্তুগীজ ভিসা সংক্রান্ত তথ্য

যদিও বাংলাদেশে পর্তুগীজ কনস্যুলেট আছে, কিন্তু এখানে কোন ভিসা/স্টুডেন্ট ভিসা এর কাজ করা হয় না। ভিসার জন্য আপনাকে পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়ায় যেতে হবে।

ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া:

প্রথমে আপনাকে এমব্যাসিতে ভিসা এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।

দ্বিতীয়তএই লিঙ্কে গিয়ে অনলাইনে অ্যাপ্লিকেশান ফর্ম পূরণ করতে হবে এবংhttp://pt.vfsglobal.co.in/pdf/SEF_F…

এই ফর্মটি ডাউনলোড করে হাতে পূরণ করতে হবে।

নোটঃ উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পর্তুগালে যেতে হলে আপনাকে লঙ টার্ম ন্যাশনাল ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। লঙ টার্ম ন্যাশনাল ভিসা দুই প্রকারঃ ১. টেম্পোরারি স্টে ভিসা।২. রেসিডেন্স ভিসা। স্টাডি বা রিসার্চ এপ্লিকেন্টরা অবশ্যই রেসিডেন্স ভিসার জন্য এপ্পলাই করবেন।

লঙ টার্ম ন্যাশনাল রেসিডেন্স ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট লাগবেঃ

  • পূরণকৃত অ্যাপ্লিকেশান ফর্ম।

  • পাসপোর্ট।

  • ০২ কপি ছবি (সাইজ ৩৫*৪০ মিঃমিঃ)।

  • ট্রাভেল হেলথ ইনসিওরেন্স। (জার্মান এম্বাসি ইন ঢাকা অনুমোদিত যেকোনো বাংলাদেশী ইনসিওরেন্স থেকে কমপক্ষে ১২০ দিনের হেলথ ইনসিওরেন্স করতে হবে, মনে রাখবেন ইনসিওরেন্স শুরুর সমকাল অবশ্যই আপনার ক্লাস শুরু হওয়ার ০৫ দিন আগে হতে হবে)।

  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।

  • প্রুফ অব একোমোডেসান লেটার(কত দিনের জন্য কনফার্ম করবেন তার কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। আপনি ০৩ মাসের জন্য কনফার্ম করতে পারেন)।

  • এপ্লিকেন্টের নামে ৭-৮ লক্ষ টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স ( নট ব্লক অ্যাকাউন্ট) ব্যাংক সার্টিফিকেট এবং লাস্ট ০৬ মাসের স্টেইটমেন্ট (সার্টিফিকেট এবং স্টেইটমেন্ট ব্যাংক ম্যানেজার কতৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে)।

  • অফার লেটার।

  • সত্যয়িত একাডেমিক কাগজপত্র (অরিজিনাল ও ২ কপি ফটোকপি)

  • আপনার সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ কতৃক নো অবজেক্সান সার্টিফিকেট দিতে হবে।

  • ভিসা ফি ৯০ ইউরো ক্যাশ দিতে হবে। (যারা স্কলারশিপ নিয়ে যাবেন তাদের এই ফী মৌকুফ)।

  • একটি ভ্যালিড ওয়ান ওয়ে ফ্লাইট বুকিং দিতে হবে। এটা করতে কোন টাকা পয়সা খরচ হয় না। (মনে রাখবেন ফ্লাইট বুকিং এর সম্ভাব তারিখ এবং ইনসিওরেন্স শুরুর তারিখ একি হতে হবে)।

নোটঃ উপরোক্ত ডকুমেন্ট গুলি ইংরেজী ভার্সনে হবে শুধুমাত্র অফার লেটারটি পর্তুগিজ ভাষায় হবে।পর্তুগীজ ভিসা প্রসেস হতে ৩০ দিন সময় লাগে। সুতরাং ক্লাস শুরু হওয়ার ৪০-৪৫ দিন আগে ভিসার জন্য এপ্পলাই করবেন। বলে রাখা ভাল, পড়াশোনার গ্যাপ ৪ বছরের বেশি হলে ভিসা পাওয়া অনেক কঠিন ব্যাপার পর্তুগালে। পর্তুগালে অধ্যয়নরত স্টুডেন্টদের ভাষ্যমতে চার বছরের কম স্টাডি গ্যাপ থাকলে অ্যাপ্লাই করতে পারে, তবে ১-২ বছরের মধ্যে হলে ভাল।

পার্ট টাইম জব সম্পর্কে কিছু কথা ও থাকা খাওয়ার খরচ

পর্তুগালে পার্ট টাইম জব সুবিধা কম। যদিও পেয়ে যান, সেটা দিয়ে শুধু আপনার খরচ চালাতে হয়তো পারবেন কিন্তু টিউশন ফি সম্ভব না। পড়াশোনার পাশাপাশি ২০ ঘণ্টা কাজের অনুমতি পাবেন। ভেকেশনে ফুল টাইম কাজের অনুমতি পাবেন। থাকা – খাওয়ার খরচ মাসে ৩০০ – ৩৫০ ইউরো লাগতে পারে।

স্থায়ী বসবাস সংক্রান্ত তথ্য

পর্তুগালে আপনি খুব কম সময়ে (২-৪ বছর), অল্প টাকায় পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট অর্জন করতে পারবেন। 

আর যারা পর্তুগালে বৈধভাবে পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় ধরে বসবাস করেন এবং ট্যাক্স অথরিটি ও জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা বা আঞ্চলিক স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলোতে নিবন্ধিত হয় এবং পর্তুগিজ ভাষায় তাদের দক্ষতার প্রমাণ করতে পারে তাহলে তারা পাঁচ বছরে নাগরিকত্বের জন্য অাবেদন করতে পারবেন। পূর্বে যেটি ছয় বছর ছিলো। এছাড়া পর্তুগালে রয়েছে GOLDEN RESIDENCE PERMIT PROGRAMME নামক একটি বিশেষ সুযোগ।

বিস্তারিত জানতে এই ওয়েবসাইট দেখুনঃhttp://www.sef.pt/portal/V10/EN/aspx/apoiocliente/detalheApoio.aspx?fromIndex=0&id_Linha=6269

আরও বিস্তারিত জানুনঃ

এমব্যাসিঃhttp://www.portugal-india.com/en/

উচ্চশিক্ষা পোর্টালঃhttp://www.studyinportugal.edu.pt/

ভিসা অ্যাপ্লিকেশান পোর্টালঃhttp://www.secomunidades.pt/vistos/

Subcribe weekly newsletter